চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী শস্যের মজুদ ৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইনস কাউন্সিল (আইজিসি)। সেক্ষেত্রে ২০২১-২২ মৌসুমের পর এবারই প্রথম বৈশ্বিক শস্য মজুদ বাড়তে যাচ্ছে। ‘গ্রেইন মার্কেট রিপোর্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আইজিসি জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে শস্যের মোট মজুদ পৌঁছতে পারে ৬১ কোটি ৯০ লাখ টনে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইনডটকম।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাড়তি উৎপাদন ও রফতানিকারক দেশগুলোর শস্য জমানোর প্রবণতা বিশ্বব্যাপী মোট মজুদ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া গত বছর পতনের দেখা পাওয়ার পর, এ মৌসুমে শস্যের আমদানি-রফতানি বাড়বে ৪ শতাংশ। এ সময় বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের আমদানি-রফতানি পৌঁছতে পারে ৪৪ কোটি ২০ লাখ টনে।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রত্যাশার চেয়ে ফলন ভালো হয়েছে। আইজিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ কারণে চলতি মৌসুমে শস্য উৎপাদন রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে। এ সময় গমসহ অন্যান্য দানাদার শস্যের মোট উৎপাদন গত বছরের তুলনায় বাড়তে পারে ৫ শতাংশ। এছাড়া বিশ্বব্যাপী শস্যের সরবরাহ ৩ শতাংশ বেড়ে ২৪৩ কোটি টনে পৌঁছতে পারে।
চলতি মৌসুমে বিশ্বব্যাপী গম উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা দেবে। মোট উৎপাদন পৌঁছতে পারে ৮৩ কোটি টনে। এটি এর আগে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ৩০ লাখ টন বেশি এবং ২০২৪-২৫ মৌসুমের মোট উৎপাদনের তুলনায় ৪ শতাংশ বা ৩ কোটি ১০ লাখ টন বেশি।
আইজিসির দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী ভুট্টা উৎপাদন আগের মৌসুমের তুলনায় ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। এ সময় মোট উৎপাদন পৌঁছতে পারে ১২৯ কোটি ৮০ লাখ টনে। এটি গত মাসে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ১০ লাখ টন বেশি।
তবে ২০২৫-২৬ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী কমতে পারে সয়াবিন উৎপাদন। সংস্থাটি জানিয়েছে, তেলবীজটির উৎপাদন এর আগের বছরের তুলনায় ৩০ লাখ টন কমে ৪২ কোটি ৬০ লাখ টনে নেমে আসতে পারে। এছাড়া এশিয়া ও আমেরিকায় চাহিদা বাড়ায় সয়াবিনের মজুদ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ লাখ টন কমে যেতে পারে।
২০২৫-২৬ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী চাল উৎপাদন বাড়ার পূর্বাভাসও দিয়েছে আইজিসি। এ সময় খাদ্যশস্যটির বৈশ্বিক চাহিদা বাড়তে পারে ১ শতাংশ। ২০২৬ সালে চালের আমদানি-রফতানি বাড়তে পারে ৪ শতাংশ।
২০২৫-২৬ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী শস্য ব্যবহার বাড়তে পারে ২ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ সময় ব্যবহার বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখবে খাদ্য, পশুখাদ্য ও শিল্প খাতে চাহিদা বৃদ্ধি।
এদিকে আইজিসির গ্রেইনস অ্যান্ড অয়েলসিড প্রাইস ইনডেক্স টানা দ্বিতীয় মাসের মতো বেড়ে ২২২ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এ সময় সয়াবিনের দাম ৭ শতাংশ বৃদ্ধিসহ ভুট্টা ও গমের এফওবি মূল্য ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এটি আইজিসির মূল্যসূচক বৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।